Posts

ও সুন্দরবন! তুমি যদি হতে এক গ্যালাপাগস দ্বীপপুঞ্জ! -আইনুল বারী

ও সুন্দরবন ! তুমি   যদি হতে এক গ্যালাপাগস দ্বীপপুঞ্জ ! -আইনুল বারী -------------------------- গ্যালাপাগস দ্বীপপুঞ্জ। এক অপার রহস্যে ঘেরা দ্বীপ। ডারউইনের সময় থেকেই জীব বিজ্ঞানীদের অপার আগ্রহের স্থান। প্রাণীজগতের বিবর্তন পরীক্ষণ - পর্যবেক্ষণের এক জীবন্ত ল্যাব যেনো। পৃথিবীর সম্ভবত একমাত্র ১০০ % অভয়ারণ্য এটি। এই দ্বীপের বাসিন্দারা তাদের এখানে বেড়াতে আসা মানুষদেরকে দেখে বিন্দুমাত্র ভয় পায় না , বরং তাদেরকে প্রকৃতিরই অংশ বলে মনে করে। গ্যালাপাগস দ্বীদের ইকো - সিস্টেম , বায়োস্ফেয়ার মানুষের হস্তক্ষেপ থেকে এতোটাই নিরাপদ ও সুখী যে ওখানকার বসবাসরত বিভিন্ন প্রজাতির বাসিন্দারা তাদের দ্বীপরাজ্যে ঘুরতে যাওয়া পর্যটকদের যেভাবে আতিথিয়তা প্রদর্শন করে তা মর্মস্পর্শ করে । যদি সব কিছুতেই আমাদের স্বার্থবাদী চিন্তা ত্যাগ করে সুন্দরবন নিয়ে ভাবনা - চিন্তা এমন হতো , সুন্দরবন   শুধু এ কারণেই মূল্যবান নয় যে ইউনেস্কো একে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ঘোষণা করেছে , শুধু এ কারণেই নয় যে এটি পৃথিবীর সর্ববৃ...

বুড়িগঙ্গার কাছে আমরা ঋণী কতোটা ? -আইনুল বারী

বুড়িগঙ্গার কাছে আমরা ঋণী কতোটা ?  -আইনুল বারী  ----------------- we all belong to an ancient identity. Stories are the rivers that take us there. -Frank Delaney পৃথিবীতে কোনো সভ্যতাই গড়ে ওঠেনি কোনো না কোনো নদীর আত্মত্যাগ ছাড়া।শহরকে গর্ভে ধারণ করে মায়াবতী নদী। নদীর পলিতে জেগে উঠে উর্বর শস্যের অকৃত্রিম ক্ষেত্র,পর্যাপ্ত সহজ খাদ্যভান্ডার হিসেবে মাছ আরোহণের অবারিত সুযোগ,খাওয়ার উপযোগী মিষ্টি পানির ব্যবহার, গো-চারণভূমি, মানুষের চলার পথ, আর সেখানেই তাই মানুষের আবাস ভূমি, বিভিন্ন সভ্যতা। পৃথিবীর প্রাচীন সভ্যতাগুলির গড়ে ওঠার প্রাথমিক প্রর্যায়ে কোনো না কোনো নদীর অবদান আছে। বাংলাদেশের রাজধানী শহর ঢাকাও তেমনি জন্ম নিয়েছিলো একটি নদীর গর্ভে। যে নদীর নাম বুড়িগঙ্গা। ঢাকা তৈরি হতো না বুড়ি গঙ্গা ছাড়া! আর সেই ঢাকার গর্ভধারণকারী মা বুড়িগঙ্গা আজ শহরের অবাঞ্ছিত দখলদার ভূমিদস্যু ও অকৃতজ্ঞ মানুষের আঘাতে আঘাতে বিষে লীন। তবুও অকত্রিম ভালোবাসার আধার বুড়িগঙ্গা আমাদের তার শেষটুকুও দিয়ে যাচ্ছে অকাতরে। বুড়িগঙ্গার কাছে আমরা কতোটা ঋণী ?  মায়ের কাছে সন্তান যতোটা ঋণী। বুড়িগঙ্গার কাছে এই শহরের মানুষ...

আমাদের কোনো নাগরিক সমাজ নেই- আইনুল বারী

আমাদের কোনো নাগরিক সমাজ নেই- আইনুল বারী ---------- এ মুহূর্তে প্রকৃতপক্ষে আমাদের কোনো নাগরিক সমাজ নেই।   নাগরিক সমাজ ধ্বংস হওয়ার কারণ ব্যক্তিক দুর্নীতির মধ্য দিয়ে আড়ালে আড়ালে বেড়ে ওঠা গোষ্ঠীগত স্বার্থবাদী চিন্তা-চেতনার এক প্রকান্ড দানবীয় ‘ অশুভে ’ক  শক্তির প্রবল হয়ে ওঠা। প্রতিদিন এ ‘ অশুভ ’   রাষ্ট্রকে দুর্বল করেছে আর রাষ্ট্রের দুর্বলতায় নাগরিক সমাজে ফাটলের শেকড় গেড়েছে।  সামাজিক মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটিয়েছে। এ দেশে মার্ক্সীয় শ্রেণী সংগ্রাম নয় , মূলত স্বার্থবাদী অজস্র গোষ্ঠীই এখন অর্থনৈতিক লোভ সম্পর্কের গোষ্ঠীগত সংঘাতে লিপ্ত। সমাজে তাই নাগরিক সমাজ বলে কিছু নেই আজ। সবল গোষ্ঠী দুর্বল গোষ্ঠীর ওপর নিজের হেজিমনি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এ সব গোষ্ঠীগত সংঘাতের মধ্য দিয়ে নাগরিক সমাজের সত্য , সুন্দর , শুভ-এর অপমৃত্যু ঘটে ।   ২। আইন , মূল্যবোধ , শিক্ষা , অর্থনীতি , সাহিত্য সংস্কৃতি যখন আধুনিক সময়ের সাথে খাপ খায় না, আর দায়িত্বশীল  প্রতিষ্ঠান /সংগঠন বুদ্ধিমত্তার সাথে পরিকল্পনা আর নীতির মাধ্যমে সে সবের পরিবর্তনের চেষ্টা করে না বা পারে না, তখন ব্যক্তিরা চেষ্টা ক...

গুড পার্টি ও এভিল পার্টি -আইনুল বারী

গুড পার্টি ও এভিল পার্টি আইনুল বারী ---------------------------------- পৃথিবীতে মানুষের জীবন সংগ্রামের জন্য কেবল দুটি পার্টি আছে- একটি হলো গুড পার্টি, অন্যটি হলো এভিল পার্টি। এভিল পার্টির সদস্যরা নিরীহ মানুষকে স্বার্থবাদী শোষণের জন্যে সুবিধাজনক কিছু মিম (meme)/বার্তা তৈরি করে সমাজে ছড়িয়ে দেয় । এ কথা সব ধর্ম বলে, সব মানবতাবাদী মতবাদ বলে যে, সমাজে সব ধরণের সংগঠনের মধ্যে গুড পার্টির সদস্যরা যেমন আছে, এভিল পার্টির সদস্যরাও আছে । যেমন হকার সংগঠনের মধ্যে ভালো সদস্য আছে, খারাপ সদস্যও আছে, কবিদের মধ্যে ভালো মানুষ আছে, খারাপ মানুষও আছে। ব্যবসায়ীদের মধ্যেও এমন আছে, বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে ভালো/খারাপ আছে, বনরক্ষকদের মধ্যে আছে, কার্টুনিস্টদের মধ্যে আছে, নাস্তিক-হুজুরদের মধ্যে আছে, চোর-ডাকাতদের মধ্যে আছে। কিছু চোর ডাকাতের হয়তো এমন মানবিক বোধ আছে, যা নামকরা ডাক্তার বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা একজন পুলিশ কর্মকর্তার নেই। এভিল পার্টির সদস্যদেরকে বেশ সতর্ক থাকতে হয়, যেনো কান্ড জ্ঞান সম্পন্ন মানুষের দল গুড ও এভিলের (ভালো-মন্দের) ভিত্তিতে নিজেদের মধ্যে বন্ধন...

পৃথিবীর অথবা সভ্যতার শেষ যুদ্ধঃ তথ্য ও ধারণার যুদ্ধ -আইনুল বারী

পৃথিবীর অথবা সভ্যতার শেষ যুদ্ধঃ তথ্য ও ধারণার যুদ্ধ -আইনুল বারী --------------------------------------------------------------------------- (১) তথ্য ও ধারণাকে আলাদাভাবে না লিখলেও চলতো, কেননা তথ্য ধারণার অন্তুর্ভুক্ত, তথ্য দিয়েই ধারণা শক্তিশালী হয়। সভ্যতার সূচনা থেকে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রগতির পথে যখন থেকে যাপিত জীবনে চিন্তার মতানৈক্য সৃষ্টি হয়েছে তখন থেকে ব্যক্তিতে-ব্যক্তিতে ও গোষ্ঠীতে-গোষ্ঠীতে মতামত ও মতাদর্শগত অঘোষিত যুদ্ধের সুচনা হয়েছে। তবে তাকে একেবারে যুদ্ধ বলা সমিচীন নয়, বলা উচিত দ্বন্দ্ব-সংঘাত। পরবর্তীতে বুদ্ধিবৃত্তিক মানুষ আরও বেশি স্বার্থপর ও বিচ্ছিন্ন হলে দল ও কৌশল রচনা করে নিজেদের ধারণা তথা মতাদর্শকে অন্যের উপর চাপিয়ে দিতে/(hegemony) প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে। যুগে-যুগে মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার একটি সংগ্রাম জোরালো হয়েছে, নানা কলা- কৌশলে অন্যের উপর প্রভাব বিস্তারী ক্ষমতার জন্ম দিয়েছে। সেখান থেকেই বল প্রয়োগ, আধিপত্যবাদী যুদ্ধের, ও যুদ্ধশাস্ত্রের বিকাশ ঘটেছে। সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়ন যেমন একটু একটু করে প্রস্ফুটিত হয়েছে যুগের মূল্যবোধ তথা নৈতিক মানদন্ডে, সামাজিক সচেতনতা...

আত্ম-সংশোধনের 'হুল ফোঁটানো' কৌশলঃ -আইনুল বারী

আত্ম-সংশোধনের 'হুল ফোঁটানো' কৌশলঃ -আইনুল বারী -------------------------------------------------- মনের ভেতরের অপরাধীকে বের করে নিয়ে আসার একটি পদ্ধতি আছে। একে বলে 'হুল ফোঁটানো' পদ্ধতি, ইংরেজিতে বলে Sting operation। জঙ্গিবাদী সন্ত্রাস দমনে পাশ্চাত্যের গোয়েন্দারা এই পদ্ধতি অনুসরণ করছে। টার্গেটের অপরাধমূলক তৎপরতার প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ মিললেই তার পেছনে গোয়েন্দারে মাঠে নামে। গোয়েন্দারা নিজেদেরকে অপরাধী চক্রের সদস্য হিসেবে টার্গেটের কাছে উপস্থাপন করে। তারপর তার সামনে টোপ দিয়ে তাকে ধাপে ধাপে  অপরাধে প্ররোচিত করে, এভাবে অপরাধ সংঘটনের পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে হাতে নাতে আটক করে। রেজওয়ানুল আহসান নাফিস নামের ২১ বছরের একজন বাংলাদেশীকে ২০১২ সালে নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার পরকিল্পনার অভিযোগে এফবিআই এই পদ্ধতিতে আটক করে। সে আল কায়দার সমর্থক ছিলো বলে এফবিআই মনে করে। জয়েন্ট টেরোরিজম টাস্ক ফোর্স টিমের কাছে তার সম্পর্কে আগে থকেই কিছু তথ্য-প্রমাণ ছিলো, এরপর গোয়েন্দা টিম তাকে হুল ফোঁটানো প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত মূহূর্তে আটক করে। বিচারে তার ৩০ বছরের কারাদন্ড হয়। তবে Stin...

বাংলায় ইসলামের আগমন ও সামজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক রূপান্তরের নীরব বিপ্লবঃ বিকল্প ইতিহাস পাঠ -২

বাংলায় ইসলামের আগমন ও সামজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক রূপান্তরের নীরব বিপ্লবঃ বিকল্প ইতিহাস পাঠ -২ -আইনুল বারী ---------------------- বাংলা ভাষার আত্মপরিচয়ের সন্ধানেঃ আদিকালে এ অঞ্চলের বিভিন্ন জনপদের সর্বসাধারণের কথ্যভাষা ছিল নানা ধরণের প্রাকৃত ভাষা। অনু. খ্রিষ্টপূর্ব ৪৫০ থেকে ১০০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ভাষাসমূহের প্রচলন ছিলো। ভাষাবিদদের মতে সমস্ত প্রাকৃত ভাষারই শেষ স্তরটি হল অপভ্রংশ। মোটামুটি হিসেবে খৃষ্টীয় প্রথম সহস্রাব্দের শেষ প্রান্তে এসে মধ্য ভারতীয় আর্য প্রাকৃত ভাষাগুলির অপভ্রংশ (অর্থাৎ যা খুব বিকৃত হয়ে গেছে এমন) অবস্থা থেকে স্বতন্ত্র পরিচয়ে আধুনিক রূপে বেরিয়ে আসতে শুরু করে ভারতের নব্য ইন্দো-আর্য আঞ্চলিক ভাষাগুলি, বাংলা-অসামিয়া-ওড়িয়া ভাষা তার অন্যতম। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতো গবেষকদের মত হলো, পূর্ব মাগধী অপভ্রংশ থেকেই বাংলা,আসামি ও উড়িয়া,মৈথিলি ইত্যাদি ভাষা উদ্ভূত হয়েছে। পূর্বী অপভ্রংশ থেকে গৌড়ীয় ধারার বাংলা-অসামিয়া-ওড়িয়া এই তিনটি ভাষার মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক বিদ্যমান। অনু. ৯০০- ১০০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৪০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে বাংলা ভাষার যে বিকাশ ঘটে,...